বিধ্বংসী আগুনে পুড়ে গেছে ইতিহাসের একটি অধ্যায় – BanglarUtsab

বিজ্ঞাপন

বাংলার উত্‍সব ডিজিটাল ডেস্ক, জলপাইগুড়ি, ১৮ ফেব্রুয়ারি: বিধ্বংসী আগুনে পুড়ে গেছে ইতিহাসের একটি অধ্যায়। ভস্মীভূত হয়ে গেছে জলপাইগুড়ির ঐতিহ্যবাহী দেবী চৌধুরানী ও ভবানী পাঠকের মন্দির। তদন্তে নেমেছে ফরেনসিক দল। গোটা এলাকা সিল করে দেওয়া হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিসবাহিনী। দফায় দফায় নেতা–‌মন্ত্রীরা এসেছেন শিকারপুরে।

শুক্রবার রাতেই এসেছিলেন জলপাইগুড়ির জেলাশাসক রচনা ভগত, ডিআইজি রাজেশ যাদব, তৃণমূল যুব সভাপতি সৈকত চ্যাটার্জী সহ বিভিন্ন সরকারি অফিসাররা। এসেছেন এসজেডিএ-‌র চেয়ারম্যান সৌরভ চক্রবর্তী, স্থানীয় বিধায়ক খগেশ্বর রায়, পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব। মন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘‌দেবী চৌধুরানী ও ভবানী পাঠকের স্মৃতি বিজড়িত এই মন্দিরটির প্রাচীন ঐতিহ্য বজায় রেখেই ফের গড়ে তোলা হবে।

দেবী চৌধুরানী মন্দির যখন জ্বলছিল তখন কথা শিল্পী জলপাইগুড়ি শহরেই ছিলেন। সমরেশ বাবু ঘটনাটা নিয়ে খুবই বিষণ্ন হয়ে পড়েছিলেন। তিনি জানান, যখনই জলপাইগুড়ি এসেছেন এই মন্দিরে যেতেন ঢুঁ মারতে। মন্দিরের সাথে একটা ঐতিহাসিক ব্যাপার তো জড়িত ছিলই। কিন্তু যতটা সন্মান এবং ঐতিহাসিক গুরুত্ব দেওয়ার কথা ছিল, তিনি জানেন না ততটা দেওয়া হত কিনা দেবী চৌধুরানী মন্দিরকে। তাই তিনি আক্ষেপের সুরে বলেন, মন্দিরটি পুড়ে যাওয়ায় তার মনটা বিষণ্ন হয়েছে , খারাপ লাগছে। আবার ভাবছি যা ছিল তা থেকেই বা কি লাভ হত।

উত্তরবঙ্গ বিশ্ব বিদ্যালয়ের ইতিহাসের প্রাক্তন অধ্যাপক আনন্দ গোপাল ঘোষ জানান, মন্দিরটি পুড়ে যাওয়া মানে ইতিহাস পুড়ে যাওয়া। বিশিষ্ঠ গবেষক উমেশ শর্মা জানিয়েছেন, মন্দির হয়তো পুনর্নির্মাণ হবে। কিন্তু পুড়ে যাওয়া সেই দেবী চৌধুরানী আর ভবানী পাঠকের পুরোনো কাঠের মূর্তিগুলো কি আর ফিরে পাওয়া যাবে। স্থানীয় মানুষের আত্মার সঙ্গে জড়িয়ে ছিল দেবী চৌধুরানী ও ভবানী পাঠকের স্মৃতিবিজড়িত এই মন্দির। শুক্রবার রাতে আগুনের লেলিহান শিখায় সব পুড়ে শেষ হয়ে গেল।

সংবাদদাতাঃ পিনাকী রঞ্জন পাল

আকর্ষণীয় আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন BanglarUtsab.co.in আপনার সাথে, আপনার পাশে।

You May Also Like