আবিরের রঙ নিয়ে লোকসভা ভোটের সমীক্ষা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু - Banglar Utsab - Bangla News

আবিরের রঙ নিয়ে লোকসভা ভোটের সমীক্ষা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু – Banglar Utsab

Banglar Utsab- হোলির মরসুমে কোন রঙের আবির বেশি বিক্রি হলো, কোন রঙের কম তা দিয়ে ভোট শতাংশের সমীকরণে মেতেছেন সাধারণ নাগরিক থেকে রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা। প্রসিদ্ধ আবির বিক্রেতা বলছেন ২০০৯ সাল পর্যন্ত হোলি খেলায় লাল আবির বিক্রি হতো মোট আবিরের ষাট শতাংশ। কিন্তু সবুজ আবির ত্রিশ শতাংশ আর গেরুয়া, হলুদ ও অন্যান্য রঙ মিলে দশ শতাংশ। ২০০৯ এর পর থেকে সবুজ আবিরের চাহিদা বাড়তে থাকে। ২০১১ সালে বাম সরকারের পতনের পর মানুষের মধ্যে লাল আবিরের চাহিদা কমতে থাকে আর সবুজ আবিরের চাহিদা আরো বৃদ্ধি পায়। ২০১৪ এর লোকসভা ভোট কিংবা ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটের বছরে হোলির সময় সবুজ আবির অন্য রঙের তুলনায় দ্বিগুন বিক্রি হয়েছে। এছাড়াও অন্যান্য উৎসবে পার্বণে বিগত বছর গুলোতে সারাবছর সবুজ আবিরের স্টক রাখতেন আবির বিক্রেতারা। ২০১৮ এর পঞ্চায়েত ভোটে সবুজ আবিরের পাশাপাশি গেরুয়া আবিরের চাহিদা ছিলো লক্ষ্যণীয় বলে জানান রঙ বিক্রেতারা। তুলনায় লাল, হলুদ রঙের আবিরের চাহিদা হ্রাস পায় অনেকটাই। ২০১৯ লোকসভা ভোটের দামামা বাজতেই হোলি উৎসব। বিক্রেতারা জানাচ্ছেন এবছর গেরুয়া আবিরের চাহিদা সবুজ আবিরের তুলনায় কোনো অংশে কম ছিলোনা। এখন এই তরজাই চলছে হাটে বাজারে চায়ের দোকানে।

হোলির রঙের বিক্রির শতাংশের হিসেব নিয়ে বিশ্লেষণে মেতেছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও আলোচকরা। রঙ কিনলে কি হবে , মানুষকে দিতে হবে তো। সবুজ শিবির ,গেরুয়া কিংবা লাল শিবিরের অনেক কর্মী সমর্থক জানান, এবছর হোলিতে অনেক নিরপেক্ষ মানুষই কোনো রাজনৈতিক দলের দখল করা রঙের আবির মাখতে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। এই তিন রঙ বাদে হলুদ, নীল বা বেগুনি যেকোনো রঙের আবির মাখতে সম্মত থাকলেও এই রঙ গুলো মেখে নিজেকে কোনো দলের সমর্থক বলে জাহির করা থেকে বিরত থেকেছেন অনেকেই। কংগ্রেস কর্মীদের বক্তব্য অবশ্য কোনো রঙের ওপর তাদের দখল নেই, সব রঙ মিলিয়েই কংগ্রেস। তবে অনেকেই এবছর রাজনৈতিক দল গুলোর দখল করা রঙ দিতে গেলে রাজি হননি একথা সত্য। তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের দাবি সবুজ আবিরের চাহিদা ছিলো এবছর লক্ষ্য করার মতো। এথেকেই বোঝা যায় গেরুয়া শিবির যতই লাফালাফি করুক শেষ জয় হবে সবুজ শিবিরেরই। বিজেপিরও বক্তব্য , অন্যান্য বছরের তুলনায় গেরুয়া রঙের ব্যবহার এবার সবুজ কিংবা লাল রঙের থেকে অনেক বেশি। আগে শাসক দলের ভয়ে মানুষ গেরুয়া রঙ মাখতে দ্বিধা বোধ করতেন, এবছর গেরুয়াকে আপন করে নিয়েছেন সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে যা নিশ্চিতভাবে পদ্মের উত্থানের ইঙ্গিত। বামেরা বলছেন, লাল রং মানুষের দৈনন্দিন জীবন সংগ্রামের সাথে জড়িয়ে আছে। ভোট বাক্সে তার প্রমান দেবেন জনগণই। যদিও আবিরের রঙের সাথে রাজনৈতিক ভোট অঙ্কের কোনো সম্পর্ক নেই তবে রঙ নিয়ে মানুষের মধ্যে একটা সুপ্ত চাপানতোর চলতে থাকে। হোলির রঙের এই চুলছেঁড়া বিশ্লেষণে ভোট সমীক্ষা এখন রাজনৈতিক পর্যালোচকদের চায়ের টেবিলের আলোচ্য বিষয়ের কেন্দ্রবিন্দু।